বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম
সেক্টর কমান্ডার জিয়াউর রহমান
জন্ম ও প্রাথমিক জীবন:
- জন্ম: ১৯ জানুয়ারি ১৯৩৬ সালে বগুড়া জেলার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী গ্রামে।
- পেশা: তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কমিশন লাভ করেন এবং একজন সামরিক কর্মকর্তা ছিলেন।
মুক্তিযুদ্ধে অবদান (সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ):
- বিদ্রোহ: ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ কালরাতে তিনি চট্টগ্রামের অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের মেজর হিসেবে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন।
- স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ: ২৭শে মার্চ ১৯৭১ তারিখে চট্টগ্রামের কালুরঘাট স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে তিনি স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন।
- সেক্টর কমান্ডার: তিনি প্রথমে ১নং সেক্টরের এবং পরবর্তীতে ১১নং সেক্টরের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- জেড ফোর্স (Z Force): ১৯৭১ সালের ৭ই জুলাই গঠিত মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম নিয়মিত ব্রিগেড 'জেড ফোর্স'-এর অধিনায়ক ছিলেন তিনি (তাঁর নামের আদ্যক্ষর 'Z' অনুসারে)।
- খেতাব: মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাঁকে 'বীর উত্তম' খেতাবে ভূষিত করে।
ক্ষমতা গ্রহণ ও রাজনৈতিক দল গঠন:
- সিপাহি-জনতার বিপ্লব: ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বর 'সিপাহি-জনতার বিপ্লব'-এর মাধ্যমে তিনি গৃহবন্দী অবস্থা থেকে মুক্ত হয়ে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে আসেন। এই দিনটিকে 'জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস' হিসেবে পালন করা হয়।
- রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ: ২১শে এপ্রিল ১৯৭৭ সালে তিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।
- জাগোদল: তিনি প্রথমে ১৯৭৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে 'জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল (জাগোদল)' গঠন করেন।
- বিএনপি প্রতিষ্ঠা: ১লা সেপ্টেম্বর ১৯৭৮ সালে তিনি 'বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (BNP)' প্রতিষ্ঠা করেন। এর প্রতীক ধানের শীষ।
- ১৯ দফা কর্মসূচি: দেশ গঠনের জন্য তিনি বিখ্যাত '১৯ দফা কর্মসূচি' ঘোষণা করেছিলেন।
সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় সংস্কার:
- বিসমিল্লাহ সংযোজন: তাঁর শাসনামলে সংবিধানের শুরুতে 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম' সংযোজন করা হয়।
- গ্রাম সরকার ও ভিডিপি: তিনি তৃণমূল পর্যায়ে 'গ্রাম সরকার' ব্যবস্থা এবং 'আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (VDP)' গঠন করেন।
আন্তর্জাতিক ও অর্থনৈতিক উদ্যোগ:
- সার্ক (SAARC)-এর রূপকার: দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতার জন্য 'সার্ক' গঠনের মূল প্রস্তাবক ছিলেন জিয়াউর রহমান (১৯৮০ সালে তিনি এই প্রস্তাব দেন, যা ১৯৮৫ সালে বাস্তবায়িত হয়)। চাকরি পরীক্ষায় এটি বারবার আসে।
- জনশক্তি রপ্তানি: তাঁর সময়েই মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপকভাবে বাংলাদেশের জনশক্তি (Manpower) রপ্তানির দ্বার উন্মোচিত হয়, যা বর্তমান রেমিট্যান্সের বড় ভিত্তি।
- খাল খনন কর্মসূচি: কৃষির উন্নয়নে তিনি দেশব্যাপী 'স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খনন কর্মসূচি' চালু করেছিলেন।
মৃত্যু ও সমাধি:
- মৃত্যু: ৩০শে মে ১৯৮১ সালে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউজে এক ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে তিনি নিহত হন।
- সমাধি: তাঁর সমাধি ঢাকার শেরেবাংলা নগরে (চন্দ্রিমা উদ্যান/জিয়া উদ্যান) অবস্থিত।